দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জামালপুরে অনলাইন কবিরাজির নামে প্রতারণা করে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
গ্রেপ্তার মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করতেন এবং জামালপুরের জনপ্রিয় ‘মেইড ইন জামালপুর’ ফেসবুক পেইজে সহ-অভিনেতা হিসেবেও কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, পাশের শেরপুর জেলার এক কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাবা-মাকে আপন করার উপায়’ সম্পর্কিত ভিডিও দেখতে শুরু করে। এ সময় টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ে খুরশেদ কবিরাজ নামের এক প্রতারকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
পরিচয়ের পর খুরশেদ কবিরাজ ও তার সহযোগীরা ‘কবিরাজ’ নামে দুটি এবং ‘আল্লাহর দান’ নামে একটি ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেয়েটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কবিরাজির ফি— ১টি খাসি, ৪টি জায়নামাজ, ৪টি আগরবাতি, ৪টি মোমবাতি, দুধ, জোড়া শুকর, চন্দন কাঠ, ফলসহ বিভিন্ন অজুহাতে ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
এরপর ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ১ লাখ টাকা কৌশলে নিয়ে নেয় প্রতারকরা। পরে আরও টাকা পাঠাতে গিয়ে দোকানদারের সন্দেহ হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা ছাইদুর রহমান ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন।
তদন্তে নেমে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে দুই সহযোগী মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতা মনির হোসেনকে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।
পিবিআই জানায়, ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই। এই নাম ব্যবহার করেই অনলাইন কবিরাজির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল চক্রটি। পরে পরে আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়।
/অ